অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে
মূলভাব:
অন্যায়কারী যেমন অপরাধী, তেমনি যে ব্যক্তি নীরবে অন্যায় সহ্য করে সেও সমপরিমাণ অপরাধের অংশীদার। অন্যায়ের নীরব সহনশীলতা অত্যাচারীকে আরও বেপরোয়া ও উদ্ধত করে তোলে।
সম্প্রসারিত ভাব:
মানবসমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল ভিত্তি হলো ন্যায়পরায়ণতা। কিন্তু যখন ক্ষমতাবান বা দুর্বৃত্তরা নিরীহ মানুষের ওপর অবিচার ও শোষণ চালায়, তখন সমাজ যদি প্রতিবাদ না করে কাপুরুষের মতো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তবে সমাজে পাপাচারের দ্রুত বিস্তার ঘটে। প্রতিবাদহীন নীরবতা অন্যায়কারীকে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন সম্মতি ও আশ্রয় দেয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের ভীরুতা ও নির্বিকার মানসিকতার সুযোগ নিয়েই স্বৈরাচারী শাসকরা জাতির সর্বনাশ ডেকে এনেছে। তাই অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে যেমন রুখে দাঁড়াতে হবে, তেমনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া নির্লিপ্ত মানুষকেও তীব্র ধিক্কার জানাতে হবে।
মন্তব্য:
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্দ্বিধায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি সচেতন ও বিবেকবান নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।