মূলভাব
অন্যায়কারী যেমন সমাজের চরম শত্রু, তেমনি অন্যায়কে নীরবে সহ্যকারীও সমান অপরাধী। উভয়ের প্রতিই মানবতা ও বিবেকের চরম ঘৃণা বর্ষিত হওয়া উচিত।
সম্প্রসারিত ভাব
স্রষ্টা মানুষকে বিবেক ও মানবিক গুণাবলি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন ন্যায় ও সত্যের পথে চলার জন্য। অন্যায় কর্ম মানুষের স্বাভাবিক মানবিক মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অন্যায় যে ব্যক্তি সংঘটিত করে, সে সচেতনভাবেই অপরাধী। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি অন্যায় প্রত্যক্ষ করেও প্রতিবাদ না করে তা নীরবে মাথা পেতে নেয়, সে আসলে পরোক্ষভাবে অন্যায়কারীকে আরও বেপরোয়া হওয়ার পথ সুগম করে দেয়।
প্রতিবাদহীন নীরবতা সমাজ ও জাতির জন্য আত্মঘাতী। দুর্বলতা, ভীরুতা কিংবা সুবিধাবাদী মনোভাবের কারণে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় না, তাদের ক্ষমা করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। নীরবে অন্যায় মেনে নেওয়া কাপুরুষতারই নামান্তর। ইতিহাসের শিক্ষা হলো—প্রতিবাদহীন সমাজ একসময় অন্যায়ের কাছে পরাভূত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। অতএব অন্যায় প্রতিরোধের মানসিকতাই প্রগতির ভিত্তি।
মন্তব্য
অন্যায় নির্মূল করতে হলে সমাজের প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিককে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদী হতে হবে। অন্যায়কারী এবং অন্যায়কে প্রশ্রয়দানকারী—উভয়কেই সমপরিমাণ ঘৃণার চোখে দেখতে হবে।