ভাবসম্প্রসারণ: কীর্তিমানের মৃত্যু নেই
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়। মহৎ কীর্তিই মানুষকে নশ্বর পৃথিবীতে চিরঞ্জীব করে রাখে।
জন্মগ্রহণ করলে মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে—এটি সৃষ্টির অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। কিন্তু পার্থিব এই নশ্বর দেহের বিনাশ ঘটলেও মানুষের সুকর্ম কখনো ধ্বংস হয় না। যে ব্যক্তি জীবদ্দশায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দেশপ্রেম বা আর্তমানবতার সেবায় বিশেষ কোনো অবদান রেখে যান, তিনি মৃত্যুর পরেও কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে বেঁচে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জগদীশচন্দ্র বসু কিংবা স্টিফেন হকিং শারীরিকভাবে আজ আমাদের মাঝে নেই; কিন্তু তাঁদের রচিত সাহিত্য ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাধ্যমে তাঁরা মহাকালের বুকে চিরন্তন হয়ে আছেন। পক্ষান্তরে যারা দীর্ঘ জীবন পেয়েও কোনো শুভকর্ম করে না, মৃত্যুর সাথে সাথে পৃথিবী তাদের বিস্মৃতির অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে। তাই আয়ুর পরিমাপ দিয়ে নয়, জীবনের মূল্য নির্ধারণ করতে হয় মহৎ কাজের পরিধি দিয়ে।
উক্তিটির অন্তর্নিহিত বাণী হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের প্রাত্যহিক আচরণ ও সমাজসেবায় তা বাস্তবায়ন করা উচিত।