ভাবসম্প্রসারণ: অন্যের অপনোদনে তুমি হও আগুয়ান, আপনার সুখ লয়ে যে আছে সে নহে মানুষ, সে পশু সমান
স্বার্থপরতা পশুবৃত্তির লক্ষণ; পক্ষান্তরে অপরের দুঃখমোচনে নিজেকে উৎসর্গ করাই মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু কেবল আহার, নিদ্রা ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণ করার মধ্যে মানবজন্মের কোনো গৌরব নেই; কারণ এই বৈশিষ্ট্যগুলো পশুদের মাঝেও বিদ্যমান। যে মানুষ কেবল নিজের ভোগ-বিলাস ও বৈষয়িক উন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত থাকে, সে বাহ্যত মানুষ হলেও নীতিগত দিক থেকে পশুর সমতুল্য। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে বহু মানুষ নানা দুঃখ-বেদনা, দারিদ্র্য ও ব্যাধিতে জর্জরিত। তাদের পাশে দাঁড়ানো, ব্যথিতের অশ্রু মোচন করা এবং আত্মসুখ বিসর্জন দিয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত ধর্ম। মাদার তেরেসা, হাজী মুহম্মদ মহসীন কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহামানবরা নিজের সুখের কথা ভাবেননি বলেই আজ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। নিঃস্বার্থ পরোপকারের মাধ্যমেই মানুষ ক্ষুদ্র গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমানবের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।
উক্তিটির অন্তর্নিহিত বাণী হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের প্রাত্যহিক আচরণ ও সমাজসেবায় তা বাস্তবায়ন করা উচিত।