সারাংশ: মাতৃভাষার চর্চা ও আত্মমর্যাদা
আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা শেখার আবশ্যকতা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য, কিন্তু নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মতো মাতৃভাষাকে অবহেলা করে কোনো জাতি কখনো আত্মমর্যাদায় বলীয়ান হতে পারে না। একটি শিশু তার জীবনের প্রথম চিন্তা, আবেগ, কল্পনা ও স্বপ্ন দেখতে শেখে মাতৃভাষার মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার সাথে মানুষের রক্তের সম্পর্ক এবং এই ভাষার ভেতর দিয়ে ভাবের যে সাবলীল ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটে, পৃথিবীর কোনো ধার করা বিদেশি ভাষায় তা কখনোই সম্ভব নয়। বিদেশি ভাষায় পারদর্শিতা বাহ্যিক অলঙ্কারের মতো হতে পারে, কিন্তু অন্তরের সঞ্জীবনী শক্তি আসে একমাত্র স্বভাষার গভীর উপলব্ধি থেকেই। যে জাতি নিজের ভাষাকে অবজ্ঞা করে বিদেশি বুলির অনুকরণে ব্যস্ত থাকে, তারা যতই ধনী হোক না কেন, মানসিকভাবে চিরকাল পরাধীন ও হীনমন্যতার দাসত্বে নিমজ্জিত থাকে। জাতীয় সত্তার উন্মেষ ও সমৃদ্ধির একমাত্র ভিত্তি হলো মাতৃভাষার অকুণ্ঠ চর্চা।
জ্ঞানার্জন ও আত্মবিকাশের শ্রেষ্ঠ বাহন হলো মাতৃভাষা। মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা ও চর্চা না করলে কোনো জাতির পক্ষে স্বনির্ভর মর্যাদা অর্জন অসম্ভব।