সারাংশ: মানুষ ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির আলো, বাতাস, জল ও শ্যামলিমায় মানুষ লালিত-পালিত হয়। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ প্রকৃতির অফুরন্ত দান ভোগ করে বেঁচে আছে। আদিমকাল থেকেই অরণ্যের ফলমূল, নদীর সুপেয় জল এবং মুক্ত নির্মল বাতাস মানুষকে জীবনধারণের শক্তি যুগিয়েছে। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার মোহে অন্ধ হয়ে মানুষ আজ সেই মাতৃসম প্রকৃতিকে নির্মমভাবে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। লোভে মত্ত হয়ে মানুষ গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করছে, পাহাড় কেটে ধূলিসাৎ করছে, নদীর বুক ভরাট করছে এবং কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও ক্ষতিকর গ্যাসে বাতাস ও পানি দূষিত করছে। মানুষ ভুলে গেছে যে, প্রকৃতিকে বিনাশ করে মানুষ নিজে কখনো নিরাপদে বাঁচতে পারে না। প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, অসময়ের প্রলয়ংকরী বন্যা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আজ সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বকেই চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রকৃতি ধ্বংসের আত্মঘাতী উন্মাদনা পরিহার করে এখনই প্রকৃতির সাথে সৌহার্দ্য ও মৈত্রী স্থাপন না করলে আগামী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবী সম্পূর্ণ বাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই মানবজাতির বেঁচে থাকা। অথচ মানুষ নিজ স্বার্থে সেই প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নিজের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলছে। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের অস্তিত্বের অপরিহার্য শর্ত।