সারমর্ম: কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুর-অসুর। রিপুর তাড়নে যখনই মোরা ছাড়িয়া পুণ্যের পথ, পাপের পঙ্কিলে নামি, নরক-অনল জ্বলিয়া ওঠে তখনি অন্তরে নামি। আর প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে, স্বর্গ নামিয়া আসে তখন এই মর্তের ধূলির পরে। পরের ব্যথায় ব্যাকুল হৃদয় যবে কাঁদে অবিরত, পরহিত তরে সঁপে দেয় প্রাণ সাধকের মতো, সেই তো স্বর্গধাম এই ধরণীর তলে, স্বর্গের সুধা ঝরে সেই আঁখিজলে। হিংসা দ্বেষ রোষ ভুলে যদি বক্ষে জড়াই সবে, স্বর্গ তবে আর কোথা খুঁজিতে হইবে?
স্বর্গ ও নরক কোনো দূরবর্তী কাল্পনিক জগত নয়; মানুষের অন্তরেই এর অবস্থান। পাপ, হিংসা ও পঙ্কিলতা মানুষকে নরকযন্ত্রণা দেয়, আর পারস্পরিক ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ প্রীতি এই ধরণীকেই স্বর্গে পরিণত করে।