সারাংশ ও সারমর্মের পার্থক্য ও মৌলিক নিয়ম
গদ্যের কোনো রচনার মূল কথা সংক্ষেপে প্রকাশ করাকে বলা হয় সারাংশ এবং কবিতার কোনো অংশের অন্তর্নিহিত ভাবকে সংক্ষেপে প্রকাশ করাকে বলা হয় সারমর্ম। উভয় ক্ষেত্রেই রচনার আয়তন সাধারণত মূল রচনার এক-তৃতীয়াংশ বা তিন-চারটি পরিণত বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা বাঞ্ছনীয়।
পরীক্ষার খাতায় পূর্ণমান অর্জনের কলাকৌশল
- উপমা ও দৃষ্টান্ত পরিহার: মূল অংশের উপমা, রূপক, অলঙ্কার, ঐতিহাসিক উদাহরণ বা উদ্ধৃতি সারাংশে লেখা যাবে না।
- সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা: প্রত্যক্ষ ও প্রাঞ্জল ভাষায় মূল ভাব নিজের শব্দে উপস্থাপন করতে হবে।
- উত্তম বা মধ্যম পুরুষ বর্জন: 'আমি', 'আমরা' বা 'তুমি' ইত্যাদি প্রত্যক্ষ সম্বোধনের বদলে নামপুরুষে লিখতে হবে।
১. আদর্শ গদ্যাংশ ও সারাংশ অনুশীলন (বোর্ড পরীক্ষার মডেল)
"মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মে। চরিত্র ছাড়া মানুষের কোনো গৌরব নেই। জ্ঞানহীন মানুষ পশুর সমান। কর্মই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। মানুষের আসল পরিচয় তার অন্তরের সাধনায়, বাইরের সাজসজ্জা বা ঐশ্বর্যে নয়। যে ব্যক্তি কেবল ভোগ-বিলাসে মগ্ন থাকে, অহমিকায় আত্মহারা হয়ে পড়ে এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের বেদনায় সমব্যথী হতে পারে না, বিত্তবৈভবের প্রাচুর্য থাকলেও সে কখনো প্রকৃত মানুষ পদবাচ্য হতে পারে না। জগতে যারা অমর হয়েছেন, তাঁরা রাজপ্রাসাদের আরাম-আয়েশে দিন কাটাননি; বরং সত্যের অন্বেষণে, জ্ঞানের আলো বিতরণে এবং মানবের মুক্তির সংগ্রামে আত্মোৎসর্গ করেছেন। অন্তরের বিশুদ্ধতা ও পরার্থপরতাই মানুষকে সৃষ্টিকুলের শীর্ষে প্রতিষ্ঠিত করে।"
মানুষের প্রকৃত মর্যাদা বাহ্যিক ধনসম্পদ বা পোশাকে নয়, বরং তার উন্নত চরিত্র, জ্ঞান, মনুষ্যত্ব এবং নিঃস্বার্থ সৎকর্মের মধ্যেই নিহিত। চারিত্রিক মাধুর্য ও মানবতার সেবাই মানুষের আসল শ্রেষ্ঠত্ব।
২. আদর্শ পদ্যাংশ ও সারমর্ম অনুশীলন (বোর্ড পরীক্ষার মডেল)
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও, তার মতো সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও। পরের কারণে মরণেও সুখ, সুখ নাই কোনো আত্মসুখে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে। আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।
আত্মকেন্দ্রিক সংকীর্ণতায় মানবজীবনের কোনো সার্থকতা নেই। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে অপরের কল্যাণ ও সমষ্টির মঙ্গলে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই জীবনের পরম আনন্দ ও প্রকৃত মহত্ত্ব নিহিত।