কীর্তিমানের মৃত্যু নাই
মূলভাব:
মানুষের রক্ত-মাংসের দৈহিক অবয়ব নশ্বর, কিন্তু তার মহৎ কর্ম, জনকল্যাণ ও সৃষ্টিশীল অবদান অবিনশ্বর। সৎকর্মশীল মানুষ দৈহিক মৃত্যুর পরও মানুষের শ্রদ্ধাপূর্ণ হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে চির অমর হয়ে বেঁচে থাকেন।
সম্প্রসারিত ভাব:
পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি জীবকেই একদিন অনিবার্য মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে কেউই এই প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে নয়। কিন্তু পার্থিব আয়ুর দীর্ঘতাই মানুষের জীবনের আসল মাপকাঠি নয়; জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত তার কাজের উৎকর্ষে। যিনি কেবল আত্মসুখ ও ধনসম্পদ অর্জনে মত্ত থাকেন, মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিও ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অপরদিকে যাঁরা নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানবকল্যাণে, জ্ঞানে, বিজ্ঞানে ও দেশের মুক্তির সংগ্রামে আত্মোৎসর্গ করেন, কালের ধূলিঝড় তাঁদের নামকে মুছে ফেলতে পারে না। সক্রেটিস, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর কিংবা আমাদের ভাষা শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা আজও আমাদের চিন্তা ও মননে দেদীপ্যমান। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—"মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।"
মন্তব্য:
অতএব, মানুষের আসল অমরত্ব শারীরিক অস্তিত্বে নয়, বরং তার নিঃস্বার্থ কীর্তি ও লোকহিতকর মহৎ অবদানেই নিহিত।