সারাংশ: বই পড়ার অভ্যাস ও পাঠাগার
স্কুল ও কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যবই সাধারণত নির্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করা এবং পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত সনদপত্র বা ডিগ্রি অর্জনের তাগিদেই পড়া হয়। কিন্তু কেবল পাঠ্যপুস্তকের সংকীর্ণ সীমানার ভেতর আবদ্ধ থাকলে মানুষের অন্তর্নিহিত উদ্ভাবনী শক্তি, রসবোধ ও উদার চিন্তাভাবনার উন্মেষ ঘটে না। মনের ক্ষুধা মেটাতে এবং মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তির অবাধ বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন বিস্তৃত সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চা। আর এই স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানচর্চার একমাত্র উন্মুক্ত তীর্থক্ষেত্র হলো একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা পাঠাগার। পাঠাগারে কোনো শাসন নেই, কোনো পরীক্ষা পাসের জবরদস্তি নেই; সেখানে মানুষ তার ব্যক্তিগত রুচি ও কৌতূহল অনুযায়ী দেশ-বিদেশের অমর সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন ও ইতিহাসের অমূল্য রত্নভাণ্ডারে স্বাধীনভাবে অবগাহন করতে পারে। একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড নির্ধারিত হয় সেই জাতির পাঠাগার সংস্কৃতির ব্যাপ্তির ওপর।
পরীক্ষাকেন্দ্রিক মুখস্থ বিদ্যার বাইরে মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তি ও মানসিক মুক্তির শ্রেষ্ঠ আশ্রয় হলো পাঠাগার ও আনন্দময় পাঠাভ্যাস।