সারাংশ: জাতীয় উন্নয়ন ও কায়িক শ্রমের মর্যাদা
আমাদের দেশে কায়িক শ্রমকে হীন চোখে দেখার এক অদ্ভুত মানসিক ব্যাধি রয়েছে। যারা হাত দিয়ে কাজ করে, মাটি কাটে, হাল ধরে, চাষাবাদ করে কিংবা মাথায় ভারী বোঝা বহন করে, তথাকথিত বাবুশ্রেণি ও শিক্ষিত সমাজ তাদের ছোটলোক বলে অবজ্ঞা করে। অথচ মানবসভ্যতার সুউচ্চ সৌধ নির্মিত হয়েছে এই মেহনতি মানুষের অক্লান্ত ঘাম ও রক্তের ওপর। কৃষক যদি রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে খাদ্য উৎপাদন না করত, তবে বুদ্ধিজীবীদেরও না খেয়ে মরতে হতো। যে জাতি শ্রমের উপযুক্ত মর্যাদা দিতে জানে না, সে জাতি কখনো পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। ইউরোপ, জাপান ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোর সমৃদ্ধির মূল কারণ হলো—সেখানে কোনো বৈধ কাজকেই ছোট বা অমর্যাদাকর মনে করা হয় না। সেখানে একজন মেকানিক, কাঠমিস্ত্রি কিংবা দিনমজুরও একজন বিচারক বা অধ্যাপকের মতোই পূর্ণ নাগরিক সম্মান পেয়ে থাকেন। কায়িক শ্রমকে অমর্যাদাকর ভাবার এই মধ্যযুগীয় সামন্তবাদী মানসিকতা দূর না করলে আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও জাতীয় অগ্রগতি কোনোদিনই সম্ভব হবে না।
কায়িক শ্রমকে অবজ্ঞা করার মানসিকতা একটি জাতির অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। শ্রমের কোনো জাত নেই; মেহনতি মানুষের শ্রমের সঠিক মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।