সারাংশ: মানুষের সত্য ও মনুষ্যত্ব
মানুষের আসল পরিচয় তার পোশাকে, রূপ-লাবণ্যে কিংবা বিত্তবৈভবের অবয়বে নয়, তার অন্তরের চরিত্রে, নীতিবোধে ও মানবিকতায়। জীবজগতের অন্যান্য প্রাণী কেবল তাদের জন্মগত জৈবিক প্রবৃত্তির বশে পরিচালিত হয়; ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও প্রজনন ছাড়া ভালো-মন্দের বিচার করার বা আত্মত্যাগের কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বিবেক, বিচারবুদ্ধি ও আত্মোপলব্ধির অনুপম শক্তি দান করেছেন। এই বিবেক দিয়ে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য উপলব্ধি করা এবং স্বার্থের প্রলোভনকে জয় করে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই মনুষ্যত্বের মূল ভিত্তি। যে মানুষ কেবল নিজের ভোগের জন্য মত্ত থাকে, লোভ-লালসায় অন্ধ হয়ে দুর্বলকে শোষণ ও প্রতারণা করে, সে মানবাকৃতি ধারণ করলেও প্রকৃতপক্ষে পশুর চেয়েও অধম। চরিত্রবান ও বিবেকবান মানুষই জগতের পরম সম্পদ।
বাহ্যিক রূপ নয়, অন্তর্নিহিত বিবেক, চরিত্র ও সততাই মানুষের আসল পরিচয়। বিবেকহীন মানুষ পশুর চেয়েও অধম।