মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ছাত্র প্রতিনিধির ভাষণ
শ্রদ্ধেয় সভাপতি, প্রধান অতিথি এবং আমার সামনে উপস্থিত স্নেহের সহপাঠী ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ—
সবাইকে ঐতিহাসিক ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা ও সালাম জানাই। আজ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও আত্মমর্যাদার দিন। ১৯৭১ সালের এই রক্তস্নাত দিনে দীর্ঘ চব্বিশ বছরের শোষণ, বঞ্চনা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পাশবিক পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল।
প্রিয় সুধীবৃন্দ, আমাদের এই রক্তিম লাল-সবুজের পতাকা কোনো করুণা বা দানে অর্জিত হয়নি। এটি অর্জিত হয়েছে ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদের পবিত্র রক্ত আর দুই লক্ষ মা-বোনের সর্বোচ্চ সম্ভ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে শত্রুসেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। আজ স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতাব্দী পর আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি শহীদদের স্বপ্নের শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি?
কেবল জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বা আনুষ্ঠানিক ফুল দেওয়াই স্বাধীনতার শেষ কথা নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, সুশিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই স্বাধীনতার পূর্ণ সার্থকতা সম্ভব। আজকের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, যুক্তি ও সততার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আসুন, শপথ নিই—আমরা মেধা ও দেশপ্রেম দিয়ে সোনার বাংলাকে বিশ্বের দরবারে সমুন্নত রাখব। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।