১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে ছাত্রনেতার আবেগঘন ভাষণ
অনুষ্ঠানের বিষয়: মহান বিজয় দিবস | বক্তা: ছাত্র সংসদের ভিপি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম / পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি।
শ্রদ্ধেয় সভাপতি মহোদয়, মঞ্চে উপবিষ্ট বিজ্ঞ সুধীবৃন্দ, আমন্ত্রিত সম্মানিত অতিথিবর্গ এবং আমার প্রাণপ্রিয় তরুণ শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সুধী সমাজ—সবার প্রতি রইল আমার আন্তরিক সালাম, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আজকের এই মহতী সমাবেশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ, গর্ব ও পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মিলিত হয়েছি যখন আমাদের জাতীয় জীবনে আত্মোপলব্ধি, সততা এবং দেশপ্রেমের বহ্নিশিখা নতুন করে প্রজ্বলিত করা অত্যন্ত আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
উপস্থিত সুধীবৃন্দ, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যে জাতি তার অতীত আত্মত্যাগকে স্মরণ করে না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও শক্তির মূল্যায়ন করতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। আমাদের এই রূপসী বাংলা কোনো আকস্মিক উপহার নয়; বহু সাধনা, কোটি মানুষের চোখের জল এবং অমর বীরদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক পবিত্র ভূখণ্ড। আজ যারা সামনে বসে আছেন, বিশেষ করে আমার তরুণ ছাত্র-যুবসমাজ, তোমরাই হলে আগামী দিনের পথপ্রদর্শক ও কাণ্ডারি।
বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো অতীতের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আজ আমাদের লড়তে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে, লড়তে হচ্ছে দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, নিরক্ষরতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে আমাদের সন্তানদের শুধু পুথিগত ডিগ্রিধারী হলে চলবে না; তাদের হতে হবে সুশিক্ষিত, নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান খাঁটি দেশপ্রেমিক মানুষ।
প্রিয় ভাইয়েরা ও বোনেরা, মনে রাখবেন—মুখে বড় বড় স্লোগান দেওয়া সহজ, কিন্তু নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করা কঠিন। আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণও ভালো কাজ করি, তবে ষোলো কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এই মাতৃভূমি বিশ্বের বুকে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মাথা উঁচু করা রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে। আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ ব্যক্তিconflict ভুলে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করি।
আমি আর বক্তব্য দীর্ঘায়িত করব না। আজকের চমৎকার আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটিকে জানাই আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিন।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সবাইকে ধন্যবাদ। খোদা হাফেজ।