অনুচ্ছেদ রচনা: পদ্মা সেতু ও জাতীয় গৌরব
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় প্রকৌশল বিস্ময় এবং জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত এই বহুমুখী দ্বিতল সেতুটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে তার অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রমাণ দিয়েছে। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একুশটি জেলাকে রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বব্যাংকসহ দাতাগোষ্ঠী যখন অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, তখন সব ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ২০২২ সালের ২৫শে জুন এই স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন করা হয়। পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরিঘাটের সীমাহীন ভোগান্তি ও অপেক্ষা চিরতরে দূর হয়েছে। কৃষকরা এখন তাদের উৎপাদিত তরতাজা শাকসবজি ও রূপালি ইলিশ দ্রুততম সময়ে রাজধানীতে সরবরাহ করতে পারছেন। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর সরাসরি সচল হয়েছে এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পদ্মা সেতু কেবল একটি কংক্রিট ও স্টিলের সেতু নয়, এটি আমাদের বীর বাঙালির আত্মবিশ্বাস, মেধা ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য ভাস্কর্য।